ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে মোটরসাইকেল না পেয়ে স্ত্রী হ্যাপি বেগমকে (১৮) নির্যাতন ও হত্যার দায়ে স্বামী রাকিব বেপারীকে (৩৬) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৫ সালে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১১ বছর পর রোববার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রাকিব বেপারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হ্যাপি বেগমকে মারধর করেন স্বামী রাকিব বেপারী ও তার স্বজনরা। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হ্যাপির পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল যৌতুক দাবি করেছিলেন রাকিব। দাবিকৃত যৌতুক দিতে না পারায় হ্যাপিকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
ঘটনার দিন রাতে হ্যাপিকে মারধরের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে পরদিন ৫ আগস্ট সকালে হ্যাপির মৃত্যুর খবর পান তার বাবা হুমায়ুন শেখ। তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বারান্দায় মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় হ্যাপি বেগম ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার গলায় ওড়না পেঁচানোর চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ওইদিনই নিহতের বাবা হুমায়ুন শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৮ জুলাই রাকিব বেপারীসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন শেখ।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী খান ভুইয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালতের এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট।