ফরিদপুর শহরের পুরাতন কালিবাড়ী সদর হাসপাতালের পাশে কালী মন্দির থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারসহ বিভিন্ন মূর্তি চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া কালীমূর্তি, স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকার এবং ছয়টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও উদ্ধারকৃত আলামত সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পুরাতন কালিবাড়ী সদর হাসপাতালের পাশে কালী মন্দিরে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরের লোহার দরজা, শাটার, সামনের কাঠের দরজা ও কেচি গেট তালাবদ্ধ করে সংশ্লিষ্টরা বাড়িতে চলে যান। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে মন্দিরে পূজা করতে এসে তারা দেখতে পান, মন্দিরের সব তালা কাটা এবং দরজা খোলা।
পরে মন্দিরের ভেতরে থাকা প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা, মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন পিতলের ছোট মূর্তি এবং মহাদেবের লিঙ্গে থাকা রৌপ্য অলংকারসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
এ ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোতয়ালী থানায় মামলা নম্বর-৪৩, তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলা তদন্তে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), সাজেদা বেগম (৬৫), আল আমিন মোল্লা (২৪) ও আতিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সাজেদা বেগমের দেখানো মতে আলফাডাঙ্গার বুরাইচ এলাকায় তার নিজ বসতবাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকার এবং মন্দিরের ছয়টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল আমিন মোল্লার দেখানো মতে বোয়ালমারী থানাধীন রূপাপাত এলাকার একটি বসতবাড়ির ঘরের পেছনে মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া কালীমূর্তি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া আসাদুজ্জামান সাদ্দামের দেখানো মতে বোয়ালমারী বাজারের স্বর্ণপট্টির একটি জুয়েলারি দোকান থেকে মন্দির থেকে চুরি হওয়া প্রতিমার কানের দুল, টিকলিসহ অন্যান্য অলংকার গলিয়ে তৈরি করা প্রায় ৮ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব আলামত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। অপর আসামি আল আমিনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটির বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মধ্যে মন্দির চুরির রহস্য উদঘাটন, সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় ফরিদপুর জেলা পুলিশকে সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।